PDF ফাইল থেকে পেজ আলাদা করুন — ফ্রি ও সাইন-আপ ছাড়াই
বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার নোটের ২০০ পেজের PDF — কিন্তু পরীক্ষার আগে দরকার শুধু ৪৫ থেকে ৬০ পেজ। চাকরির আবেদনে চাইল শুধু অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেটের পাতাটা, অথচ আপনার কাছে আছে সব সার্টিফিকেট মিলিয়ে একটা ৩০ পেজের ফাইল। আবার স্ক্যান করা জমির দলিলের ১৫ পাতা থেকে ব্যাংকে জমা দিতে হবে শুধু খতিয়ানের পাতাটা।
এমন দরকারে অনেকে পুরো PDF-টাই পাঠিয়ে দেন — যেটা দেখতে অপেশাদার লাগে, আবার অনেক অনলাইন ফরমে ফাইল সাইজের সীমাও থাকে। আবার কেউ কেউ মোবাইলে স্ক্রিনশট নিয়ে পেজ আলাদা করেন, ফলে লেখা ঝাপসা হয়ে যায় আর প্রিন্টে কাজে লাগে না। আসলে দরকারি পেজগুলোকে আসল মান বজায় রেখে আলাদা PDF বানানো মিনিটখানেকের কাজ — কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল বা অ্যাকাউন্ট খোলা ছাড়াই।

ধাপ ১: PDF টা টুলে তুলুন
ব্রাউজারে Split PDF টুল খুলুন। Choose PDF File বাটনে ক্লিক করে ফাইলটা বেছে নিন, অথবা ফাইলটা টেনে এনে বক্সের ওপর ছেড়ে দিন। ফাইলটা কম্পিউটারে থাকুক বা ফোনের স্টোরেজে — যেকোনো ডিভাইসের ব্রাউজার থেকেই করা যায়।
এখানেই সবচেয়ে বড় সুবিধা: পুরো কাজটা আপনার ব্রাউজারের ভেতরেই হয়। ফাইল কোনো সার্ভারে আপলোড হয় না, তাই সার্টিফিকেট, দলিল বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের মতো ব্যক্তিগত কাগজ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
ধাপ ২: কোন পেজগুলো চান, সেটা বেছে নিন
ফাইল লোড হলে পেজগুলোর থাম্বনেইল দেখা যাবে — অর্থাৎ প্রতিটা পেজের ছোট ছবি। পেজ নম্বর মনে না থাকলেও ছবি দেখে চিনে নিতে পারবেন কোনটা দরকার। এরপর দুইভাবে ভাগ করতে পারেন:
📐 রেঞ্জ দিয়ে ভাগ করা — যখন নির্দিষ্ট অংশ চান। যেমন 1–3 আর 5–8 লিখলে পেজ ১–৩ নিয়ে একটা ফাইল আর পেজ ৫–৮ নিয়ে আরেকটা ফাইল তৈরি হবে। চাকরির ফাইলে থেকে শুধু সার্টিফিকেটের অংশ, বা নোট থেকে শুধু একটা অধ্যায় বের করতে এটাই সবচেয়ে কাজের।
📑 এক্সট্রাক্ট মোড — যখন প্রতিটা পেজকে আলাদা আলাদা ফাইল হিসেবে চান। যেমন ১০ পেজের ফাইল থেকে ১০টা আলাদা PDF। একটা টিকেই সব পেজ আলাদা হয়ে যায়, পেজ পেজ করে হাতে বাছতে হয় না।
একটা দরকারি অপশন আছে — মার্জ। এটা চালু রাখলে আপনার দেওয়া সব রেঞ্জ আলাদা আলাদা ফাইল না হয়ে একটাই PDF-এর ভেতর জমা হবে। যেমন পেজ ২–৪ আর ১০–১২ দুটো অংশই চান, কিন্তু এক ফাইলে — তখন মার্জ অন করে দিন।
ধাপ ৩: স্প্লিট করে ডাউনলোড নিন
Split PDF বাটনে ক্লিক করুন। কয়েক সেকেন্ডেই কাজ শেষ। একাধিক অংশ হলে সবগুলো একসাথে একটা ZIP ফাইলে পাবেন — ডাউনলোড করে আনজিপ করলেই প্রতিটা অংশ আলাদা PDF হিসেবে হাতে পাবেন।
আলাদা হওয়া পেজগুলোর মান হুবহু আসলের মতোই থাকে — লেখা ঝাপসা হয় না, প্রিন্টেও কোনো সমস্যা হয় না। আর ফাইলে কোনো ওয়াটারমার্ক বসে না।
কাজের টিপস
- থাম্বনেইল দেখে নিশ্চিত হোন: রেঞ্জ লেখার আগে পেজের ছোট ছবিগুলো একবার স্ক্রল করে দেখুন। অনেক সময় ভেতরের পেজে কভার বা ফাঁকা পাতা থাকে, ফলে নম্বর এক-দুই এদিক-ওদিক হতে পারে।
- রেঞ্জ লেখার নিয়ম: পেজ ১ থেকে ৩ চাইলে 1-3 লিখুন। একাধিক অংশ চাইলে কমা দিয়ে আলাদা করুন — যেমন 1-3, 5-8।
- এক পেজ চাইলে রেঞ্জই যথেষ্ট: শুধু ৭ নম্বর পেজটা দরকার হলে 7-7 লিখুন — আলাদা মোড বদলানোর দরকার নেই।
- ফাইল বড় হয়ে গেলে: আলাদা করার পর ফাইলটা মেইলে পাঠাতে বা ফরমে আপলোড করতে সাইজ বেশি মনে হলে Compress PDF টুল দিয়ে ছোট করে নিন।
- ভুল পেজ বাদ দিতে চান? পুরো ফাইল থেকে শুধু কিছু পেজ ফেলে দিতে চাইলে রেঞ্জে বাদ-পড়া অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকিটা নিন — ফেলে দেওয়া পেজগুলো নতুন ফাইলে আসবেই না।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
এই টুল কি সত্যিই ফ্রি?
হ্যাঁ। যত খুশি PDF ভাগ করতে পারবেন — কোনো টাকা, অ্যাকাউন্ট বা পেজ-সংখ্যার সীমা নেই, আর ফাইলে কোনো ওয়াটারমার্কও বসে না।
আমার ফাইল কি সার্ভারে আপলোড হবে?
না। ভাগ করার পুরো কাজটা আপনার ব্রাউজারের ভেতরেই হয় — ফাইল আপনার ডিভাইস ছেড়ে কোথাও যায় না। দলিল বা সার্টিফিকেটের মতো গোপন কাগজের জন্য এটা নিরাপদ।
রেঞ্জ আর এক্সট্রাক্টের পার্থক্য কী?
রেঞ্জে আপনি পেজের দল বানান — যেমন ১–৪ নিয়ে একটা ফাইল, ৫–৯ নিয়ে আরেকটা। এক্সট্রাক্টে বাছাই করা প্রতিটা পেজ আলাদা আলাদা ফাইল হয়ে যায়।
ভাগ করা অংশগুলো একটাই ফাইলে রাখা যাবে?
যাবে। ভাগ করার আগে মার্জ অপশনটা চালু করে দিন — তাহলে সব রেঞ্জ আলাদা ফাইল না হয়ে একটাই PDF-এর ভেতর জমা হবে।
পেজের মান কি কমে যাবে?
না। পেজগুলো হুবহু কপি হয় — লেখা, ছবি, ফরম্যাটিং সব আগের মতোই থাকে।
বড় ফাইল থেকে দরকারি পেজটুকু বের করা আর ঝামেলার কাজ নয়। ফ্রি Split PDF টুলটা খুলে দেখুন — আপলোড, রেঞ্জ বাছাই, ডাউনলোড — তিন ধাপেই কাজ শেষ।
সম্পর্কিত: Merge PDF · Compress PDF · PDF to Word